কারো
আকীদা বা বিশ্বাস যদি বিশুদ্ধ না হয় তাহলে তার ঈমান থাকবে না। আমাদের সকলের আদি
পিতা আদম আলাইহি ওয়াসাল্লামসহ যুগে যুগে পৃথিবীতে যেসকল নবী-রাসূলগণ এসেছেন তারা
সবাই ছিলেন মাটির তৈরি মানুষ। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজ এক শ্রেণীর লোকেরা রাসুল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় বাড়াবাড়ির মাধ্যমে শিরক ও কুফরিতে
লিপ্ত। এদের দাবী যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নূরের
তৈরি ছিলেন, তিনি গায়েবের খবর জানতেন, কোথাও তাঁর নামে মিলাদ বা দরূদ পড়া হলে তিনি
সশরীরে সেখানে উপস্থিত হন (নাউজুবিল্লাহ)। ইসলামের
সঠিক জ্ঞানের অভাবের কারনে আজ অনেক সাধারন মুসলিম এইসব পথভ্রষ্ট লোকের (নামধারী
আলেম) ধোঁকায় পড়ে নিজেদের ঈমান ও আমল নষ্ট করে ফেলছেন। এবার আসুন দলিলসহ বিস্তারিত
এই বিষয়ে আলোচনা করা যাক, যাতে করে আমরা সত্যটি জেনে ও বুঝে গ্রহণ করতে পারি এবং
আমাদের ঈমান রক্ষা করে চলতে পারি। কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
আমিই
তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তোমাদেরকে রূপ দান করেছি,
তারপর আমি মালাইকাদেরকে/ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিয়েছি - তোমরা
আদমকে সাজদাহ কর। তখন ইবলীস ছাড়া সবাই সাজদাহ করল, যারা
সাজদাহ করল সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হলনা। তিনি (আল্লাহ) তাকে (ইবলীসকে) জিজ্ঞেস
করলেনঃ আমি যখন তোকে সাজদাহ (আদমকে) করতে আদেশ করলাম তখন কোন বস্তু তোকে নত শির
হতে নিবৃত্ত করল? সে উত্তরে বললঃ আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ,
আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর
তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি দ্বারা। [সূরা আল-আ'রাফ/৭, আয়াতঃ ১১-১২]
আর অবশ্যই
আমি মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি। [সূরা আল-মুমিনুন/২৩, আয়াতঃ ১২]
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আবূ যার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমার ঘরের ছাদ খুলে দেয়া হল। তখন আমি মক্কায় ছিলাম। তারপর
জিবরীল (আঃ) এসে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। আর তা যমযমের পানি দিয়ে ধুইলেন। এরপর
হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি সোনার পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বক্ষে ঢেলে দিয়ে
বন্ধ করে দিলেন। তারপর হাত ধরে আমাকে দুনিয়ার আসমানের দিকে নিয়ে চললেন। যখন
দুনিয়ার আসমানে পৌঁছালাম, তখন জিবরীল (আঃ) আসমানের
রক্ষককে বললেনঃ দরযা খোল। তিনি বললেনঃ কে? উত্তর দিলেনঃ
আমি জিবরীল, আবার জিজ্ঞাসা করলেনঃ আপনার সঙ্গে আর কেউ আছে
কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আমার
সঙ্গে মুহাম্মদ। তিনি আবার বললেনঃ তাঁকে কি আহবান করা হয়েছে? তিনি উত্তরে বললেনঃ হাঁ। তারপর আসমান খোলা হলে আমরা প্রথম আসমানে
উঠলাম। সেখানে দেখলাম, এক লোক বসে আছেন এবং অনেকগুলো
মানুষের আকৃতি তাঁর ডান পাশে রয়েছে এবং অনেকগুলো মানুষের আকৃতি বাম পাশেও রয়েছে।
যখন তিনি ডান দিকে তাকাচ্ছেন, হাসছেন আর যখন তিনি বাম
দিকে তাকাচ্ছেন, কাঁদছেন। তিনি বললেনঃ খোশ আমদেদ, হে পুণ্যবান নাবী! হে নেক সন্তান! আমি জিবরীল (আঃ) কে জিজ্ঞাসা করলামঃ
ইনি কে? তিনি বললেনঃ ইনি আদম (আঃ)। আর তাঁর ডানে ও বায়ে
তাঁর সন্তানদের রুহ। ডান দিকের লোকেরা জান্নাতী আর বা দিকের লোকেরা জাহান্নামী।
এজন্য তিনি ডান দিকে তাকালে হাসেন আর বাঁ দিকে তাকালে কাঁদেন। তারপর জিবরীল (আঃ)
আমাকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় আকাশে উঠলেন। সেখানে উঠে রক্ষক কে বললেনঃ দরযা খোল। তখন
রক্ষক প্রথম আসমানের রক্ষকের অনুরুপ প্রশ্ন করলেন। তারপর দরযা খুলে দিলেন। ...। [সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৮/সালাত, হাদিস নম্বরঃ ৩৪২]
উপরে
উল্লিখিত কুরআনের আয়াত থেকে আমরা স্পষ্টই জানতে পারলাম যে, আদম আলাইহি ওয়াসাল্লাম
মাটির তৈরি মানুষ ছিলেন আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মি'রাজের
ঘটনা (হাদিস) থেকে জানতে পারলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
আদম আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুণ্যবান নবী ও নেক সন্তান হিসেবে সম্বোধন করেছেন। এবার
আসুন আরো বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম একজন মাটির তৈরি মানুষ ছিলেন, তিনি গায়েবের খবর জানতেন না এবং তিনি
নূরের তৈরি ফেরেশতাও নন । আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেন,
বলুনঃ আমিও
তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে,
তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা
করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে
এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে। [সূরা আল কাহাফ/১৮,
আয়াতঃ ১১০]
মুহাম্মদ তোমাদের
কোন ব্যক্তির পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সব
বিষয়ে জ্ঞাত। [সূরা আল-আহজাব/৩৩, আয়াতঃ ৪০]
বলুনঃ পবিত্র
মহান আমার পালনকর্তা, একজন মানব, একজন
রসূল ছাড়া আমি কে? [সূরা আল-ইসরা/১৭, আয়াতঃ ৯৩]
বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে
কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন
পুনরুজ্জীবিত হবে। [সূরা আন-নামাল/২৭, আয়াতঃ ৬৫]
আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ
সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি
গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে
বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও
হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র
একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য। [সূরা আল-আ'রাফ/৭, আয়াতঃ ১৮৮]
নিশ্চয় (হে মুহাম্মদ) আপনারও মৃত্যু হবে এবং তাদেরও মৃত্যু হবে। [সূরা আয-যুমার/৩৩,
আয়াতঃ ৩০]
আর মুহাম্মদ
একজন রসূল বৈ তো নয়! তাঁর পূর্বেও বহু রসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তাহলে কি তিনি
যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা নিহত হন, তবে
তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে? বস্তুতঃ কেউ যদি পশ্চাদপসরণ করে,
তবে তাতে আল্লাহর কিছুই ক্ষতি-বৃদ্ধি হবে
না। আর যারা কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তাদের সওয়াব দান করবেন। [সূরা
আল-ইমরান/৩, আয়াতঃ ১৪৪]
আপনি বলুনঃ
আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি
অদৃশ্য বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি
না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু
ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ
অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না ? [সূরা আল-আন'আম/৬,
আয়াতঃ ৫০]
বলে দাও, হে মানব মন্ডলী। তোমাদের সবার
প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল, সমগ্র
আসমান ও যমীনে তার রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে
ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন
ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর উপর, তাঁর
প্রেরিত উম্মী নবীর উপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহর এবং তাঁর
সমস্ত কালামের উপর। তাঁর অনুসরণ
কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার। [সূরা আ'রাফ/৭,
আয়াতঃ ১৫৭-১৫৮]
তিনিই
নিরক্ষরদের মাঝে পাঠিয়েছেন তাঁর রসূলকে তাদেরই মধ্য হতে, যে তাদের কাছে আল্লাহর আয়াত পাঠ করে,
তাদেরকে পবিত্র করে, আর তাদেরকে কিতাব ও
হিকমত শিক্ষা দেয় অথচ ইতোপূর্বে তারা ছিল স্পষ্ট গুমরাহীতে নিমজ্জিত। আর (এই
রসূলকে পাঠানো হয়েছে) তাদের অন্যান্যদের জন্যও যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি
(কিন্তু তারা ভবিষ্যতে আসবে)। আল্লাহ মহাপরাক্রান্ত, মহাবিজ্ঞানী।
এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। আর
আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী। যাদের উপর তাওরাতের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল,
অতঃপর তা তারা বহন করেনি (অর্থাৎ তারা তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব
পালন করেনি) তাদের দৃষ্টান্ত হল গাধার মত, যে বহু কিতাবের
বোঝা বহন করে (কিন্তু তা বুঝে না)। যে সম্প্রদায় আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে,
তাদের দৃষ্টান্ত কতইনা নিকৃষ্ট! যালিম সম্প্রদায়কে আল্লাহ সঠিক
পথে পরিচালিত করেন না। [সূরা আল-জুমুআহ/৬২, আয়াতঃ ২-৫]
আল্লাহ ঈমানদারদের
উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী
পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন
করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুতঃ তারা
ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট। [সূরা
আল-ইমরান/৩, আয়াতঃ ১৬৪]
নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তার হুজরার দ্বার প্রাস্তে জনৈক ঝগড়াকারীর শোরগোল শুনতে পেলেন। তখন তিনি তাদের
কাছে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন, আমি তো একজন মানুষ। তবে
আমার কাছে যখন কোন বাদী বিবাদী আসে তখন হয়ত একজন অপরজন থেকে অধিক বাকপটু হয়। আর
আমি মনে করি যে, সেই সত্যবাদী। আমি যার পক্ষে মুসলিমদের
হকের ব্যাপারে রায় দেই, তা বস্তুত জাহান্নামের একটি
টুকরা। সুতরাং সে তা গ্রহণ করুক কিংবা ছেড়ে দিক (তা তার ইছা)। [সহীহ মুসলিম
(ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩১/বিচার বিধান, হাদিস নম্বরঃ ৪৩২৬]
আবদুল্লাহ
ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সহ পাঁচ রাকআত
সালাত আদায় করলেন। আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালাত কি
বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেন, কিরূপে?
তারা বলল, আপনি পাঁচ রাক’আত পড়েছেন। তিনি বললেন, আমি তোমাদের মতই একজন
মানুষ। তোমরা যেমন স্মরণ রাখ, আমিও তেমনি স্মরণ রাখি।
তোমরা যেরূপ ভুলে যাও, আমিও সেরূপ ভুলে যাই। এরপর ভুলের
জন্য দুটি সিজদা করলেন। [সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৫/মসজিদ ও সালাতের স্থান,
হাদিস নম্বরঃ ১১৬২]
একথা
সম্পূর্ণ ভুল যে, কোন কিছু নূরের তৈরী হলেই তা শ্রেষ্ঠ
হয়ে যাবে। বরং শ্রেষ্ঠত্বের মূল বিষয় হল তার অভ্যান্তরীণ গুণ শ্রেষ্ঠ হওয়া। সুতরাং
মাটির তৈরী সর্বশ্রেষ্ঠ মানব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নূরের
তৈরী বলে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করাটা একটি অহেতুক চেষ্টা। এরপরও যদি কেউ কুরআনের আয়াতকে অস্বীকার করার মাধ্যমে কুফুরি করে,
তাহলে দেখুন আল্লাহপাক কি বলেছেন পবিত্র কুরআনে -
বলুনঃ সত্য
তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস
স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক। আমি জালেমদের
জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার
বেষ্টনী তাদের কে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয়
প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদের
মুখমন্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট
পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়। [সূরা আল-কাহফ/১৮, আয়াতঃ ২৯]
আর তাদের মত
হয়ো না, যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং নিদর্শন
সমূহ আসার পরও বিরোধিতা করতে শুরু করেছে-তাদের জন্যে রয়েছে
ভয়ঙ্কর আযাব। সেদিন কোন
কোন মুখ উজ্জ্বল হবে, আর কোন কোন মুখ হবে কালো। বস্তুতঃ যাদের
মুখ কালো হবে, তাদের বলা হবে, তোমরা কি ঈমান আনার পর কাফের হয়ে গিয়েছিলে? এবার
সে কুফরীর বিনিময়ে আযাবের আস্বাদ গ্রহণ কর। [সূরা আল-ইমরান/৩,
আয়াতঃ ১০৫-১০৬]
যেদিন আমি
একত্রিত করব একেকটি দলকে সেসব সম্প্রদায় থেকে, যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলত; অতঃপর তাদেরকে
বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। যখন তারা উপস্থিত
হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছিলে? অথচ
এগুলো সম্পর্কে তোমাদের পুর্ণ জ্ঞান ছিল না। না তোমরা
অন্য কিছু করছিলে? জুলুমের কারণে তাদের কাছে আযাবের ওয়াদা
এসে গেছে। এখন তারা কোন কিছু বলতে পারবে না। [সূরা আন-নামাল/২৭,
আয়াতঃ ৮৩-৮৫]
মৃতকে
তুমি কথা শোনাতে পারবেনা, বধিরকেও পারবেনা আহবান শোনাতে,
যখন তারা পিছন ফিরে চলে যায়। তুমি অন্ধদেরকে তাদের পথভ্রষ্টতা
হতে পথে আনতে পারবে না। তুমি শোনাতে পারবে শুধু তাদেরকে যারা বিশ্বাস করে। আর
তারাই আত্মসমর্পনকারী (মুসলিম)। [সূরা আন-নামাল/২৭, আয়াতঃ ৮০-৮১]
অনেক মানুষ
আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে। [সূরা ইউসুফঃ
১০৬]
সবাই তাঁর
অভিমুখী হও এবং ভয় কর, নামায কায়েম কর এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত
হয়ো না। যারা তাদের ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং অনেক দলে বিভক্ত
হয়ে পড়েছে। প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উল্লসিত। [সূরা আর-রুম/৩০, আয়াতঃ ৩১-৩২]
ঈসা (আঃ) ছিলেন আল্লাহর
রসূল আর আহলে-কিতাবগন (খ্রিষ্টান)
ঈসা (আঃ) কে আল্লাহ্র পুত্র বানিয়ে (নাউজুবিল্লাহ) বারাবারি করে পথভ্রান্ত হয়েছে আর মুশরিকদের দলভুক্ত হয়ে গেছে। কুরআনে আল্লাহ
তা'আলা বলেন,
নিঃসন্দেহে
মরিয়ম পুত্র মসীহ ঈসা আল্লাহর রসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি প্রেরণ করেছেন মরিয়মের নিকট
এবং রূহ-তাঁরই কাছ থেকে আগত। অতএব, তোমরা আল্লাহকে এবং তার রসূলগণকে মান্য
কর। [সূরা আন-নিসা/৪, আয়াতঃ ১৭১]
আবূ
হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক
মরুবাসী সাহাবী নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে উপস্থিত হয়ে বললেন,
আমাকে এমন আমলের পথনির্দেশ করুন যা আমল করলে জান্নাতে প্রবেশ
করতে পারব। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে,
তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবেনা, (পাঁচ
ওয়াক্ত) ফরয সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, ফরয যাকাত
আদায় করবে ও রমযানের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে। সাহাবী বললেন,
আমার প্রাণ যাঁর হাতে তাঁর কসম, আমি এর
উপর বৃদ্ধি করব না। তিনি যখন ফিরে গেলেন তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেনঃ কেউ যদি জান্নাতী লোক দেখতে আগ্রহী হয় সে যেন তার দিকে তাকিয়ে দেখে। [সহীহ
বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২১/যাকাত, হাদিস নম্বরঃ ১৩১৫]
এরপর কারো
মনে আর কোন সন্ধেহ থাকার সুযোগ নেই। কেউ যেন নিজের
অজ্ঞতা ও খেয়াল-খুশির দরুন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে নিয়ে অতিরঞ্জন ও বারাবারিতে লিপ্ত হয়ে ঈমান না হারায়। আল্লাহ তা'আলা আমাদের তাওহীদের উপর অটল থাকার হেদায়েত দান করুন। আমীন।
No comments:
Post a Comment