Thursday, June 27, 2019

মুসলিম নামধারী পথভ্রষ্ট দলঃ আহলে কুরআন বা হাদিস অস্বীকারকারী দল


এক শ্রেণীর পথভ্রষ্ট লোকেরা দাবী করে যে তারা শরীয়তের বিধান হিসেবে শুধু কুরআন মানে আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ বা হাদিসকে অস্বীকার করে। এরা এদের দাবীর পক্ষে যুক্তি দেখায় যে, কুরআনে আল্লাহ্‌ সবকিছু বর্ণনা করেছেন তাই কুরআনই যথেষ্ট। অথচ আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বহু আয়াতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন সেটা তারা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেএদেরকে যখন বলা হয় যে, আল্লাহ্‌ তা'আলা তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন তখন এরা প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে কুরআনের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাড় করায় এবং বলে যে, তাহলে কি আপনি কুরআন যে পরিপূর্ণ তা অস্বীকার করছেন? মানুষ কতটা মূর্খ ও জালেম হলে কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে এরকম কথা বলতে পারে এটা সুস্থ-স্বাভাবিক জ্ঞান সম্পন্ন মুসলিম ভাইবোনেরা খুব সহজেই অনুমান করতে পারেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ থেকে কোন বিষয়ে ততক্ষন পর্যন্ত কোন কিছু বলতেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না জিবরাঈল (আঃ) এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তা'আলা তাঁর প্রিয় বান্দা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবগত না করতেন। আল্লাহ্‌ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেন,

নক্ষত্রের শপথ, যখন তা অস্তমিত হয়। তোমাদের সাথী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। এবং তিনি নিজ থেকে কোন কথা বলেন না। বরং তা হচ্ছে ওহী, যা (তাঁর কাছে) পাঠানো হয়। তাঁকে শিক্ষা দান করে এক শক্তিশালী ফেরেশতা[সূরা আন-নাজম/৫৩, আয়াতঃ ১-৫]

আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ) বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি [সূরা আল-আম্বিয়া/২১, আয়াতঃ ১০৭]

যারা শুধুমাত্র কুরআনকে অনুসরণের দাবী করে তারা নিতান্তই পথভ্রষ্ট ও কুফরিতে লিপ্ত। এরা দাবী করছে যে, শুধু কুরআন মানে অথচ কুরআনে আল্লাহ্‌ তা'আলা রাসূল (সাঃ) অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন যা তারা অস্বীকার করছে। অর্থাৎ এরা আল্লাহ্‌ তা'আলার নির্দেশ অমান্য করে প্রকাশ্য কুফরিতে লিপ্ত। এদের সম্পর্কে আল্লাহ্‌ তা'আলা বলেন,

যে কেউ রসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সব মুসলমানের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান [আন নিসা/৪, আয়াতঃ ১১৫]

কেবল আল্লাহর বাণী ও তাঁর রিসালাত পৌঁছানোই দায়িত্ব। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাতে তারা চিরস্থায়ী হবে। [সূরা আল-জ্বিন/৭২, আয়াতঃ ২৩]

সেদিন কামনা করবে সে সমস্ত লোক, যারা কাফের হয়েছিল এবং রসূলের নাফরমানী করেছিল, যেন যমীনের সাথে মিশে যায় কিন্তু গোপন করতে পারবে না আল্লাহর নিকট কোন বিষয় [সূরা আন-নিসা/৪, আয়াতঃ ৪২]

জালেম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম। [সূরা আল-ফুরকান/২৫, আয়াতঃ ২৭]

তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন। [সূরা আল-বাকারা/২, আয়াতঃ ৮৫]

আর যদি আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে (হে মুহাম্মদ), তবে বলুন, আমার জন্য আমার কর্ম, আর তোমাদের জন্য তোমাদের কর্ম। তোমাদের দায়-দায়িত্ব নেই আমার কর্মের উপর এবং আমারও দায়-দায়িত্ব নেই তোমরা যা কর সেজন্য। [সূরা ইউনুস/১০, আয়াতঃ ৪১]

আল্লাহ্‌ তা'আলা পবিত্র কুরআনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করার জন্য বহু আয়াত নাযিল করেছেন,

যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি [সূরা আন-নিসা/৪, আয়াতঃ  ৮০]

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও আর আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য কর, যদি ঈমানদার হয়ে থাক [সূরা আল-আনফাল/৮, আয়াতঃ  ]

হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ তাঁর রাসূলের নির্দেশ মান্য কর এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না [আল-আনফাল/৮, আয়াতঃ  ২০]

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রসূলের (সাঃ) আনুগত্য কর এবং নিজেদের কর্ম বিনষ্ট করো না [সূরা মুহাম্মদ/৪৭, আয়াতঃ ৩৩]

বলুনঃ আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলের আনুগত্য কর অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে সে দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে তোমরা দায়ী তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে রসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌছে দেয়া [সূরা আন-নুর/২৪, আয়াতঃ ৫৪]

রাসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মত গণ্য করো না আল্লাহ তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে [আন-নুর/২৪, আয়াতঃ ৬৩]
 
নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও [সূরা আন-নুর/২৪, আয়াতঃ ৫৬]

বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু [সূরা আল-ইমরান/৩, আয়াতঃ ৩১]

বলুন, ‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করতারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদেরকে ভালবাসেন না। [সূরা আল-ইমরান/৩, আয়াতঃ ৩২]

আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও রসূলের, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয় [সূরা আল-ইমরান/৩, আয়াতঃ ১৩২]

তোমরা আল্লাহর অনুগত হও, রসূলের অনুগত হও এবং আত্মরক্ষা কর কিন্তু যদি তোমরা বিমুখ হও, তবে জেনে রাখ, আমার রসূলের দায়িত্ব প্রকাশ্য প্রচার বৈধ নয় [সূরা আল-মায়িদাহ/৫, আয়াতঃ ৯২]

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম [সূরা আন-নিসা/৪, আয়াতঃ  ৫৯]

রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা [সূরা আল-হাশর/৫৯, আয়াতঃ ৭]

আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুতঃ তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট। [সূরা আল-ইমরান/৩, আয়াতঃ ১৬৪]  

বস্তুতঃ আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাঁদের আদেশ-নিষেধ মান্য করা হয় আর সেসব লোক যখন নিজেদের অনিষ্ট সাধন করেছিল, তখন যদি আপনার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রসূলও যদি তাদেরকে ক্ষমা করিয়ে দিতেন অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী, মেহেরবানরূপে পেত [সূরা আন-নিসা/৪, আয়াতঃ ৬৪]

মুমিনদের বক্তব্য কেবল এ কথাই যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দিকে তাদেরকে আহবান করা হয়, তখন তারা বলেঃ আমরা শুনলাম ও আদেশ মান্য করলাম তারাই সফলকাম [সূরা আন-নুর/২৪, আয়াতঃ ৫১]

আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয় [সূরা আল-আহযাব/৩৩, আয়াতঃ ৩৬]

যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে [সূরা আল-আহযাব/৩৩, আয়াতঃ ২১]  

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আল্লাহ্‌ তা'আলা বলেন,

হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি এবং আল্লাহর আদেশক্রমে তাঁর দিকে আহবায়করূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে আপনি মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিরাট অনুগ্রহ রয়েছে আপনি কাফের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না এবং তাদের উৎপীড়ন উপেক্ষা করুন ও আল্লাহর উপর ভরসা করুন আল্লাহ কার্যনিবার্হীরূপে যথেষ্ট [সূরা আল-আহযাব/৩৩, আয়াতঃ ৪৫-৪৮]

আমি আপনাকে সত্যধর্মসহ পাঠিয়েছি সংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাতে সতর্ককারী আসেনি তারা যদি আপনার প্রতি মিথ্যারোপ করে, তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যারোপ করেছিল তাদের কাছে তাদের রসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শন, সহীফা এবং উজ্জল কিতাবসহ এসেছিলেন [সূরা ফাতির/৩৫, আয়াতঃ ২৪-২৫]

আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি অবস্থা ব্যক্তকারীরূপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে যাতে তোমরা আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তাঁকে সাহায্য ও সম্মান কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর [সূরা আল ফাত্হ/৪৮, আয়াতঃ ৮-৯]

আপনি (হে মুহাম্মদ) অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী [সূরা আল-ক্বলম/৬৮, আয়াতঃ ৪] 

অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে (হে মুহাম্মদ) ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হূষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে [সূরা আন-নিসা/৪,, আয়াতঃ ৬৫]

তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময় [সূরা আত-তউবা/৯, আয়াতঃ ১২৮]

কুরআন আল্লাহ্‌ তা'আলার পক্ষ থেকে প্রেরিত নির্ভুল ও পরিপূর্ণ আসমানী কিতাবআল্লাহ্‌ তা'আলা পবিত্র কুরআন জিবরাঈল (আঃ) এর মাধ্যমে নাযিল করেছেন তাঁর প্রিয় বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর এবং রাসূল (সাঃ) তাঁর জীবদ্দশায় ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন ব্যবস্থায় কুরআনের অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে গেছেন যাতে তাঁর উম্মাহ অনুরসরণ করতে পারে সহজেকাজেই কুরআন ও রাসূল (সাঃ) সুন্নাহ মিলেই ইসলামিক জীবন বিধান। যারা কুরআন ও রাসূলের (সাঃ) সুন্নাহকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাড় করায় তারা স্পষ্টভাবেই কুফরিতে লিপ্ত। আল্লাহ্‌ তা'আলা বলেন,

আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক [সূরা আল-হিজর/১৫, আয়াতঃ  ৯]

সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি নিজের বান্দার প্রতি এ গ্রন্থ নাযিল করেছেন এবং তাতে কোন বক্রতা রাখেননি [সূরা আল-কাহফ/১৮, আয়াতঃ ১]

তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি, তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও সুষম। তাঁর বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। [সূরা আল-আন'আম/৬, আয়াতঃ ১১৪-১১৫]

শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের আমি একে নাযিল করেছি এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয় আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ [সূরা আদ-দুখান/৪৪, আয়াতঃ ২-৬]

এই হলো মানুষের জন্য বর্ণনা আর যারা ভয় করে তাদের জন্য উপদেশবাণী [সূরা আল-ইমরান/৩, আয়াতঃ ১৩৮]

এটা আল্লাহ্‌ ভীরুদের জন্যে অবশ্যই একটি উপদেশ আমি জানি যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মিথ্যারোপ করবে নিশ্চয় এটা কাফেরদের জন্যে অনুতাপের কারণ নিশ্চয় এটা নিশ্চিত সত্য অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ননা করুন [সূরা আল হাক্কাহ/৬৯, আয়াতঃ ৪৮-৫২]

আমি তো সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ অবর্তীর্ণ করেছি আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালনা করেন তারা বলেঃ আমরা আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং আনুগত্য করি; কিন্তু অতঃপর তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তারা বিশ্বাসী নয় তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্য যখন তাদেরকে আল্লাহ ও রসূলের দিকে আহবান করা হয তখন তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয় [সূরা আন-নুর/২৪, আয়াতঃ ৪৬-৪৮]  

তিনি অদৃশ্যের জ্ঞানী পরন্ত তিনি অদৃশ্য বিষয় কারও কাছে প্রকাশ করেন না তাঁর মনোনীত রসূল ব্যতীত তখন তিনি তার অগ্রে ও পশ্চাতে প্রহরী নিযুক্ত করেন যাতে আল্লাহ তা'আলা জেনে নেন যে, রসূলগণ তাঁদের পালনকর্তার পয়গাম পৌছিয়েছেন কি না রসূলগণের কাছে যা আছে, তা তাঁর জ্ঞান-গোচর তিনি সবকিছুর সংখ্যার হিসাব রাখেন [সূরাআল জ্বিন/৭২, আয়াতঃ ২৬-২৮]

সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব তাদের বিপক্ষে তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষী স্বরূপ উপস্থাপন করব আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ [সূরা আন-নাহল/১৬, আয়াতঃ ৮৯]  

বলুন (হে মুহাম্মদ), তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর - আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না [সূরা আত-তউবা/৯, আয়াতঃ ২৪]

এরপরও যদি কেউ কুরআনের আয়াতকে অস্বীকার করে, তাহলে দেখুন আল্লাহ তা'আলা কি বলেছেন পবিত্র কুরআনে -

বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক আমি জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের কে পরিবেষ্টন করে থাকবে যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয় [আল কাহফ/১৮, আয়াতঃ ২৯]

তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না  [আল কাহফ/১৮, আয়াতঃ ৫৭]

আমাদের মধ্যে কেউ আহলে কুরআন নামের দল বা ফিরকার ফিতনায় পড়ে থাকলে আসুন আল্লাহর কাছে তাওবা করে সংশোধন হয়ে যাই। জাযাকাল্লাহ খায়ের।